মান্টোর সাহিত্য ও উপমহাদেশে জাতিরাষ্ট্রের জন্ম || জাভেদ হুসেন ||
Автор: Nasir Uz Zaman
Загружено: 2022-03-26
Просмотров: 10675
মান্টোর সাহিত্য ও উপমহাদেশে জাতিরাষ্ট্রের জন্ম || জাভেদ হুসেন
বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ, মুন্সিগঞ্জ জেলার উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে 'মান্টোর সাহিত্য ও উপমহাদেশে জাতিরাষ্ট্রের জন্ম' শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় (১৮ মার্চ ২০২২)৷
এতে প্রধান আলোচক ছিলেন প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক জাভেদ হুসেন৷ সভাপতিত্ব করেন মুজিব রহমান ও সঞ্চালনা করেন ইকবাল হুসেন বাবুল৷
সাদাত হোসেন মান্টো
"এখানে সমাধিতলে শুয়ে আছে মান্টো। আর তার বুকে সমাহিত হয়ে আছে গল্প লেখার সমস্ত কৌশল"
মৃত্যুর আগে শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী সাদাত হোসেন মান্টোর এপিটাফে একথাটি লিখে রাখা হয়।পারিবারিক কড়া শাসন আর শৃংখলার ভেতর বেড়ে উঠলেও ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন বোহেমিয়ান। স্কুলে পড়া অবস্থায় মান্টোর টেবিলে থাকতো ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের মহানায়ক ভগত সিংহের মূর্তি। পড়ার সময়ও চুমু আঁকতেন তিনি সেই মূর্তিতে। মান্টো স্বপ্ন দেখতেন তিনি ভগত সিংহের মতো ইংরেজ তাড়াচ্ছেন। অন্যদিকে দিনভর অমৃতসরের রাস্তায় রাস্তায় ঘোরা আর দুচোখ জুড়ে স্বাধীনতার স্বপ্ন, মান্টোর পকেটে সিগারেট, রোদের মধ্যে এপার থেকে ওপাড়, বিরাম নেই তার। সিগারেট ফুঁকছেন তিনি আর বিপ্লবের স্বপ্নে কাতর। ছোটবেলা থেকেই পাঠ্যসূচীর বাইরে গল্প- উপন্যাস পড়ায় তাঁর আগ্রহ জন্মে। পড়ার নেশা থেকেই পাঞ্জাবের অমৃতসর রেল স্টেশনের হুইলার বুকস্টল থেকে একবার বইও চুরি করেছিলেন।
ছোটগল্পের ঈশ্বর বলা হয় তাকে। তাঁর গল্প বলার ধরন ব্যতিক্রম। একেকটা গল্প একেকটা অনুভুতির গল্প। দেশভাগের দরুন তাকেও কাটাতারের বেড়া পার হতে হয়েছে। পালিয়ে যেতে হয়েছে গ্রামে। দেশভাগের ফলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকে প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি। দাঙ্গার সেই সময়টাকে গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। দাঙ্গার নিষ্ঠুরতা, ধর্মাশ্রিত জাতীয়তাবোধের হিংস্রতা, মানুষের দ্বিমুখিতা, সাম্প্রদায়িক হামলাকে উপজীব্য করে তিনি লিখেছেন কালো সীমানা নামে ছোটগল্পের বই। বইতে মোট ৩২ টি গল্প আছে। এক-দুই লাইনের গল্পও আছে। প্রতিটা গল্পের শব্দ এত শক্তিশালী যে মুহুর্তেই আপনাকে দাঙ্গার সেই পটভূমিতে নিয়ে যাবে। দাঙ্গার পাশাপাশি সমাজের অসঙ্গতি ও অমানবিকতার কথাও বলেছেন মান্টো। দেশভাগের ফলে মানুষকে চিরচেনা আশ্রয় থেকে নতুন আশ্রয় খুজতে হয়েছে।
দাঙ্গার ভয়াবহতা ও মানুষের আশ্রয়হীনতার নির্মম ছবি আমরা দেখতে পাই এই গল্পে,
"আগুন লাগল যখন, সারা মহল্লা জ্বলে ছাই হলো। কেবল একটা দোকান বেঁচে গেল, সেই দোকানের ওপর সাইনবোর্ড তখনও পড়া যাচ্ছিল, "এখানে বাড়ি বানানোর মাল-সামান পাওয়া যায়।”
ধর্মান্ধ শ্রেনী কিভাবে একে অন্যের উপর ঝাপিয়ে পড়েছে কোনরকম অনুশোচনা ছাড়াই ধর্মের নামে তার নজির পাওয়া যায় এই গল্পে,
"পেটো ফাঁক করে দিয়ে নাভি পর্যন্ত নেমে এলো ছুরি। পাজামার ফিতে কেটে গেল। ছুরি চালানো লোকটা সঙ্গে সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করে বলল, “ছি, ছি, ছি, ছি, মিস্টেক হয়ে গেছে!
মান্টো বলে গিয়েছিলেন, "আমি থাকবো না, কিন্তু আমার ভাষ্য থেকে যাবে, আমার গল্পই আমার কথা বারবার বলবে।" তাইতো সালমান রুশদির ভাষায় সাদত হাসান মান্টো হলেন "Undisputed master of modern Indian short story."
Доступные форматы для скачивания:
Скачать видео mp4
-
Информация по загрузке: