এস আই আর এ কাদের নাম সবচেয়ে বেশী বাদ পড়ছে? কেন বাদ পড়েছে?
Автор: বাংলা বাজার BANGLA BAZAR
Загружено: 2026-01-15
Просмотров: 36461
চল্লিশটা বছর আগে বাংলাদেশের ভিটেমাটি ছেড়ে এ পারে চলে এসেছিলেন, ২৫ বছরের এক যুবক, তার জমি জিরেত, ঘরবাড়ি সব রেখে। তারপর ৪০ টা বছর ধরে তৈরি করেছেন ঘরবাড়ি, পরিবার, চাকরি, রোজগার সবকিছু এই বাংলাতেই কিন্তু এত বছরেও ভারতবর্ষ তাঁর 'স্বদেশ' হতে পারেনি। বুধবার সকালে ছিল ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (সার) নিয়ে শুনানি। তার ২৪ ঘণ্টা আগেই চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিলেন ৬৫ বছরের প্রৌঢ় মতুয়া নিখিলচন্দ্র দাস। মঙ্গলবার রাতে অশোকনগরের গুমা স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ডাউন বনগাঁ লোকালের সামনে ঝাঁপ দেন তিনি। 'সার' নিয়ে মৃত্যু মিছিলের মধ্যে রাজ্যে এই প্রথম কোনও মতুয়া আত্মহত্যা করলেন। কে দেবে জবাব? শান্তনু ঠাকুর? কে বলেছিলেন সি এ এ করে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, তার, তাদের কথায় কেন আস্থা রাখতে পারলেন না এই প্রৌঢ়। ৬৫ বছর বয়সে কেন তাঁর মনে হল আবার শেকড় ছেঁড়া জীবনের চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো। নরেন্দ্র মোদী – অমিত শাহ কেবল স্বৈরাচারী নয়, ঠান্ডা মাথায় খুন করলেন এই প্রৌঢ়কে, নিখিল দাস কে। হ্যাঁ এস আই আর এর টার্গেট - প্রান্তিক মানুষ, মহিলা আর পরিযায়ী শ্রমিক। সেই তালিকা রোজ লম্বা হচ্ছে, রোজ মানুষ মরছেন, তালিকার নতুন সংযোজন এই মানুষটা। এতদিন মতুয়াদের নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট বৈতরণী পার হয়েছে বিজেপি, মিথ্যে কথা বলেছে বিজেপি। এ বার 'সার' শুরু হতেই তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কারণ, অধিকাংশ মতুয়ার কাছেই নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নথিপত্র নেই। ২০০২ বা ২০২৫, কোনও ভোটার তালিকাতেই নাম ছিল না নিখিল বা তাঁর কোনও পরিজনের। শুনানিতে কী দেখাবেন, তা ভেবেই কত ক'দিন কার্যত খাওয়া ঘুম ছেড়েছিলেন নিখিল। পরিবারের দাবি, সেই আতঙ্কেই নিজেকে শেষ করলেন। এবং মাথায় রাখুন এটাই প্রথম নয়, এটা শেষও নয়, এই তালিকা রোজ বাড়বে, আর সেখানে লক্ষ্য করুন, মরছেন, মরবেন, প্রান্তিক দরিদ্র মানুষ, মহিলা আর পরিযায়ী শ্রমিকের দল। ভারতের মতো এক বিশাল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকত্ব তো কেবল এক আইনি তকমা নয়; একটা ছাপ্পা নয়, এটা হলো রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা আর মৌলিক অধিকার পাওয়ার অন্যতম শর্ত, থাকলেই পাবেন, এমন নয়, কিন্তু না থাকলে পাবেন না। তবে গত কয়েক বছরে নাগরিকত্ব প্রমাণের যে জটিল প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, তা দেশের এক বিশাল অংশের মানুষের জন্য এক অস্তিত্বের সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি), জাতীয় জনসংখ্যা পঞ্জি (এনপিআর) আর বর্তমানে দেশজুড়ে শুরু হওয়া ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা 'এসআইআর' (Special Intensive Revision)—এই প্রতিটা প্রক্রিয়া আপাতদৃষ্টিতে আপনার কাছে প্রশাসনিক সংস্কার মনে হলেও, এগুলোর উদ্দেশ্য আলাদা, এর আসল শিকার হচ্ছেন সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষগুলো । বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে, এই ব্যবস্থাটা এমনভাবে করা হয়েছে, এমন ডিজাইনে করা করা হয়েছে যেখানে কেবল নথিপত্রের অভাবে প্রান্তিক মানুষ, মহিলা আর পরিযায়ী শ্রমিকদের নাগরিক অধিকার সুকৌশলে কেড়ে নেওয়া যাবে। হঠাৎ তাঁরা গায়েব হয়ে যাবেন, বেনাগরিক হয়ে যাবেন, থাকবেন এই দেশেই, যাবেন আর কোথায়, কিন্তু তারা থেকেও থাকবেন না কাগজে কলমে, রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রকল্পের তাদের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে না। এক ধাক্কায় আমাদের দরিদ্র সংখ্যা কমে যাবে, এক ধাক্কায় আমাদের গৃহহীনের সংখ্যা কমে যাবে, এক ধক্কায় এই শীতে বা আগামী গরমে কুঁকড়ে মরে থাকা মানুষের সংখ্যা কমে যাবে, কারণ বেনাগরিকদের গিনতি হয়না। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যখন 'কাগজ' চাওয়া হয়, তখন সেই কাগজের বোঝা সাধারণ মানুষের জীবনের চেয়েও ভারী হয়ে দাঁড়ায়, যা শেষ পর্যন্ত তাদের গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দেয়, আর ঠিক সেটাই হচ্ছে ।নাগরিকত্বের এক নতুন আমলাতান্ত্রিক বিন্যাস চলছে, এতদিন নাগরিকেরাই ঠিক করতো কে বসবেন সরকারে, কে হবেন প্রধানমন্ত্রী, এখন সরকার বাহাদুর ঠিক করছেন কে হবেন নাগরিক। বলা হয়েছিল ২০২৫ সালে ভারতের নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার এক বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর শুরু করেছে। যদিও কমিশন এটাকে একটা রুটিন মাফিক ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছে, কিন্তু এর ভেতরের নানান জটিলতা, প্যাঁচ পয়জার আর প্রয়োগ পদ্ধতি এক বিশাল জনমানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে । তার প্রথম কারণ হলো এর আগে কখনও আমাদের দেশজুড়ে, রাজ্য জুড়ে এরকম নিবিড় সংশোধনীর কাজ হয় নি। এরকম কোনও সংশোধনীর জন্য যতটা সময়, প্রস্তুতি থাকা দরকার তাও তো নেই নির্বাচন কমিশনের এই ব্যবস্থায়। এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে 'অবৈধ বিদেশি' চিহ্নিত করার যে ক্ষমতা নিচুতলার আমলা বা বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) হাতে দেওয়া হয়েছে, তা আদতে একটা সমান্তরাল এনআরসি প্রক্রিয়া, কারণ এখন তো পরিস্কার বলা হচ্ছে যে হ্যাঁ নির্বাচন কমিশন নাগরিকত্বেরই যাচাই করছে, কেবল বলা হচ্ছে না, এতাও বলা হচ্ছে যে এই অধিকার নির্বাচন কমিশনের আছে। আর সেই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো 'Burden of Proof' বা প্রমাণের দায়ভার রাষ্ট্রের বদলে নাগরিকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া।
Доступные форматы для скачивания:
Скачать видео mp4
-
Информация по загрузке: