ডাকা টু পঞ্চগর টু তেতুলিয়া বাংলাবান্ধা ||পঞ্চগর গিয়ে সারজিস ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ Dhaka to Tetulia 1st
Автор: Travel with Jamil
Загружено: 2026-01-12
Просмотров: 162
পঞ্চগড় জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শেষ প্রান্তে ভৌগোলিক সৌন্দর্যের সুন্দর জনপদ পঞ্চগড় জেলা । ১৯৮৪ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়, বোদা, দেবীগঞ্জ ও আটোয়ারী উপজেলা নিয়ে পঞ্চগড় জেলা গঠন করা হয় । রাজনগড়, মিরগড়, ভিতরগড়, দেবেনগড় ও হোসেনগড় নামের পাঁচটি গড়ের সমন্বয়ে গঠিত পঞ্চগড় জেলার তিনদিকেই ১৮৩ মাইল বেষ্টিত বাংলাদেশ-ভারতীয় সীমান্ত অঞ্চল। এ জেলার উত্তরে ভারতের দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলা, উত্তরপূর্ব ও পূর্বে জলপাইগুড়ি ও কুচবিহার জেলা এবং পশ্চিমে ভারতের পূর্ণিয়া ও উত্তর দিনাজপুর জেলা অবস্থিত। করতোয়া, ডাহুক, মহানন্দা, তালমা, পাঙ্গা এবং চাওয়াই নদী ছাড়াও এ জেলায় অনেক পাহাড়ী নদী রয়েছে । হিমালয় অঞ্চলের শৈত্য প্রবাহের কারণে এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা খুব বেশী । হিন্দু ও মুসলিম ছাড়াও এ জনপদে রয়েছে রাজবংশী, কোচ, পলিয়া, সাঁওতাল, ওঁরাও এবং সুনরীদের জনবসতি জেলার মোট আয়তন ১৪০৪.৬২ বর্গ কি:মি: এবং ২০১১ সালের জনসংখ্যা এবং গৃহায়ন জরীপ অনুয়ায়ী মোট জনসংখ্যা ৯,৮৭,৬৪৪ জন ।
০১। পঞ্চগড়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য:
যে কোন সভ্যতার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক বাহক হলো ঐ সভ্যতার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ । পুরাকীর্তি মানুষ ও মানবতার গতি প্রকৃতি ও ধ্যান-ধারণাকে প্রকাশ করেছে । কালের প্রেক্ষাপটে মানুষের সাংস্কৃতিক চেতনাকে প্রকাশ করে এক একটি প্রত্ন নিদর্শন। সেজন্য একটি বিশেষ অঞ্চলের ও বিশেষ জনগোষ্ঠীর ধারাবাহিক প্রাচীন ইতিহাস পুর্নগঠনে সে অঞ্চলের প্রত্নতত্ত্বের ভূমিকা অপরিসীম । পঞ্চগড় জনপদে দীর্ঘকাল ব্যাপ্ত পুন্ড্র, গুপ্ত, পাল, সেন ও মুসলিম শাসকগণের সংস্পর্শে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য প্রত্ন নিদর্শন । এগুলোর মধ্যে ‘‘ ভিতরগড়’’ একটি উলেস্নখযোগ্য ঐতিহাসিক প্রত্ন নির্দশন। বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন অপেক্ষাকৃত উঁচু ও প্লাবন বহির্ভূত উত্তরবঙ্গে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে প্রাচীন ও মধ্যযুগে মাটির তৈরী গড় ও দুর্গই ছিল বেশী উপযোগী । পঞ্চগড় সদর উপজেলাধীন অমরখানা ইউনিয়নে অবস্থিত ভিতরগড় দুর্গ নগরী বাংলাদেশের মধ্যে সর্ববৃহৎ । প্রায় বার বর্গ মাইল স্থান জুড়ে ৪টি আবেষ্টনীসহ এ বিশাল গড় ও নগরীর অবস্থান । দুর্গের প্রাথমিক কাঠামোটি পৃথু রাজা কর্তৃক আনুমানিক ৬ষ্ঠ শতকে নির্মিত হয় । অতঃপর পাল বংশীয় রাজাদের দ্বারা এ অঞ্চল অধিকৃত ও শাসিত হওয়ার কালে গড়ের সম্প্রসারণ ঘটে ।
পঞ্চগড় সদর উপজেলাধীন অমরখানা ইউনিয়নে রয়েছে একটি সুদৃশ্য বিশালায়তন জলাশয় যা বর্তমানে ‘মহারাজা দিঘী’ নামে পরিচিত । পাড়সহ এর আয়তন প্রায় ৮০০x৪০০ গজ। পাড়ের উচ্চতা প্রায় ২০ ফুট, পানির গভীরতা প্রায় ৪০ ফুট । দিঘীতে রয়েছে মোট ১০টি বাঁধানো ঘাট । ধারণা করা হয় পৃথু রাজা এ দিঘীটি খনন করেন । কথিত আছে পৃথু রাজা পরিবার-পরিজন ও ধনরত্নসহ ‘কীচক’ নামক এক নিম্ন শ্রেণীর আক্রমনের শিকার হয়ে তাদের সংস্পর্শে ধর্মনাশের ভয়ে এ দিঘীতে আত্নহনন করেন। প্রতি বছর বাংলা নববর্ষে এ দিঘীর পাড়ে মেলা বসে ।
মহারাজার দিঘীর এ অকৃত্রিম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের ধারা বহন করে চলেছে সুদৃশ্য মহানন্দা নদী । মহানন্দা নদীর তীরে ছোট একটি পাহাড়ের উপরে অবস্থিত পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরের ঐতিহাসিক ‘ডাক বাংলো’ । এর নির্মাণ কৌশল অনেকটা ভিক্টোরিয়ান ধাচের । জানা যায় কুচবিহারের রাজা এটি নির্মাণ করেছিলেন। এর পাশাপাশি তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ কর্তৃক নির্মিত একটি পিকনিক কর্ণার রয়েছে । উক্ত স্থান হতে হেমন্ত ও শীতকালে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। শীতকালে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য অনেক দেশী বিদেশী পর্যটকের আগমন ঘটে। এছাড়াও বহুলোকের আনাগোনা দেখা যায় পঞ্চগড় রকস্ মিউজিয়ামে । পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ চত্ত্বরে তৎকালীন অধ্যাপক ডক্টর নাজমুল হক কর্তৃক ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের একমাত্র প্রস্তর যাদুঘর ‘রকস মিউজিয়ামটি’ পঞ্চগড়ের পরিচিতিকে পৌঁছে দিয়েছে দেশ থেকে দেশান্তরে । উক্ত মিউজিয়ামে প্রত্নতাত্ত্বিক ও লোকজ সংগ্রহ রয়েছে প্রায় ১০০০ এরও বেশী ।
চমৎকার স্থাপত্য নিদর্শন বিশিষ্ট মির্জাপুর শাহী মসজিদ পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে অবস্থিত । ১৬৭৯ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত ঢাকা হাইকোর্ট প্রাঙ্গনে অবস্থিত মসজিদের সাথে মির্জাপুর শাহী মসজিদের নির্মাণ শৈলীর সাদৃশ্য রয়েছে । ফলকের ভাষা ও লিপি অনুযায়ী ধারণা করা হয় মোঘল সম্রাট শাহ আলমের রাজত্বকালে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয় । এ মসজিদের পাশে গড়ে ওঠে বার আউলিয়া মাজার । মাজারটি পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত । জানা যায় মধ্যপ্রাচ্য হতে বার জন আউলিয়া ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য উক্ত স্থানে এসে বসবাস শুরু করেন । তারা মৃত্যু বরণ করলে উক্তস্থানে তাদের সমাহিত করায় এ স্থানের নাম হয় বার আউলিয়া।
অনেক মসজিদ-মাজারের পাশাপাশি এ জেলায় গড়ে উঠে বদেশ্বরী মন্দির । এ মন্দিরটি বোদা থানার অন্তর্গত বদেশ্বরী গ্রামে করতোয়া নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত । হিন্দু ধর্মের স্কনদপুরানে বর্ণিত আছে, শীব তার সহধর্মিনী পার্বতীর মৃত্যু যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে তার সহধর্মিনীর শব দেহটি কাঁধে নিয়ে পৃথিবীর সর্বসত্মরে উন্মাদের ন্যয় ঘোরাতে থাকলে স্বর্গের রাজা বিষ্ণুদেবের নিক্ষিপ্ত সুদর্শন চক্রের আঘাতে শবদেহটি বাহান্নটি খন্ডে বিভক্ত হয় । কথিত আছে যে,শবের বাহান্নটি খন্ডের মধ্যে একটি চট্রগ্রামের সীতাকুন্ডে এবং অপরটি পঞ্চগড়ের বদেশ্বরীতে পড়ে । বদেশ্বরী মন্দিরের পাশাপাশি গোলকধাম মন্দিরের একটি চমৎকার নিদর্শন পরিলক্ষিত হয় । এটা দেবীগঞ্জ উপজেলা শালডাঙ্গা ইউনিয়নের শালডাঙ্গা গ্রামে অবস্থিত । মন্দিরটি ১৮৪৬ সালে নির্মিত হয় । এটি অষ্টাদশ শতকের একটি স্থাপত্য নিদর্শন । এ স্থাপত্য কৌশল গ্রীক পদ্ধতির অনুরূপ ।
#foryoupagereels #travel #bangladesh #touristdestination
Доступные форматы для скачивания:
Скачать видео mp4
-
Информация по загрузке: