9 January, 2026
Автор: DIPANKAR LODH
Загружено: 2026-01-09
Просмотров: 3
আপনার সঙ্গী হয়তো অভিযোগ করছেন যে আপনি রাতের বেলা ভীষণ নাক ডাকেন। ঘুমের মধ্যে আপনার হাসফাস লাগে। অনেকক্ষণ ঘুমিয়ে ওঠার পরও দিনের বেলায় ঝিমুনি হয়। এসব সমস্যাকে হালকাভাবে না নিয়ে জানার চেষ্টা করুন আপনি স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত কিনা।
একজন পালমোনোলজিস্ট বা বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ এ ব্যাপারে পরামর্শ দিতে পারবেন। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার কারণ হচ্ছে সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে স্লিপ অ্যাপনিয়ার প্রভাবে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি গাড়ি চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটানো, চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া এমনকি সঙ্গীর সাথে সম্পর্ক অবনতি হওয়ার মতো সমস্যায় পড়ে থাকেন।
তবে কেউ যদি রোগ শনাক্তের সাথে সাথে ব্যবস্থা নেন, তাহলে এই রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
স্লিপ অ্যাপনিয়া কী?
স্লিপ হল ঘুম এবং অ্যাপনিয়া বলতে মেডিকেলের ভাষায় শ্বাসরুদ্ধ হওয়া বোঝায়। সে হিসেবে স্লিপ অ্যাপনিয়া হচ্ছে ঘুমানোর সময় শ্বাসনালী কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়া।
শ্বাসনালী যতক্ষণ বন্ধ থাকে, রোগী নিশ্বাস নিতে পারেন না। এতে বাইরে থেকে বাতাসের মাধ্যমে অক্সিজেন শরীরে প্রবেশ করতে পারে না।
এতে মস্তিষ্ক, হার্ট বা অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দিনের পর দিন কিছু সময়ের জন্য অক্সিজেনের ঘাটতির ফলে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। যার প্রভাবে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের তথ্যমতে, ঘুমের সময় আমাদের ঘাড় ও গলার চারপাশের মাংসপেশি শিথিল হলে ভেতরের দিকে এলিয়ে পড়ে। এ কারণে ঘুমানোর সময় সবারই শ্বাসনালীর কিছুটা সংকোচন ঘটে।
যাদের পেশীর শিথিলতা অন্যদের চেয়ে বেশি, বিশেষ করে যারা স্থূলতায় ভুগছেন, তাদের শ্বাসনালীর সংকোচন অনেক বেশি হয়, যা শ্বাসনালীর পথ বন্ধ করে দিতে পারে।
শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সচল রাখতে অক্সিজেন খাদ্যের মতো কাজ করে। যখন অক্সিজেনের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তখন মস্তিষ্ক সিগন্যাল দিয়ে রোগীকে জাগিয়ে তোলে, যেন তিনি নিশ্বাস নেন এবং তখন সংকুচিত শ্বাসনালী খুলে যায়।
এভাবে স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত রোগী বার বার জেগে ওঠেন। বার বার ঘুম ভাঙার কারণে তারা ক্লান্ত থাকেন, ফলে দিনের বেলায় ঝিমুতে থাকেন।
সুইডেনের এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাদের স্লিপ অ্যাপনিয়া আছে তাদের গাড়ি চালানোর সময় দুর্ঘটনায় পড়ার আশঙ্কা আড়াই গুণ বেশি। এছাড়া চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার হারও বেশি থাকে।
লক্ষণ
স্লিপ অ্যাপনিয়ার কিছু লক্ষণের কথা তো শুরুতেই বলছিলাম। জাতীয় নাক কান গলা ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ স্লিপ অ্যাপনিয়ার এমন কিছু লক্ষণের কথা জানিয়েছেন-
অস্বাভাবিক নাক ডাকা। অস্বাভাবিক বলতে হঠাৎ জোরে ডাকছেন, আবার থেমে যাচ্ছে, তারপর আবার ভিন্ন স্বরে নাক ডাকছেন। এই ব্যাখ্যা আপনার সাথে যিনি ঘুমান, তিনি ভালো দিতে পারবেন।
মাঝে মাঝে ঘুমের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার অনুভূতি হয়, বিশেষ করে চিত হয়ে ঘুমানোর সময় শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। ঘুমের মধ্যে ঝাঁকুনি দিয়ে জেগে ওঠেন বা বসে পড়েন, কিছু সময়ের জন্য হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়।
অনেক সময় ঘুমানোর পরও ক্লান্ত লাগে, কাজ করতে গিয়ে বা গাড়ি চালাতে গিয়ে হুট করে ঘুমিয়ে পড়েন।
মেজাজ খিটখিটে থাকে।
কারও সাথে কথা বলতে ভালো লাগে না, অবসাদগ্রস্ত লাগে।
কাজে মনোযোগ দিতে পারেন না।
ভুলে যাওয়ার সমস্যা।
ওষুধ খেয়েও রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকছে না।
পা ম্যাজ ম্যাজ করা, মাথাব্যথা করা।
স্লিপ অ্যাপনিয়া পরীক্ষা
স্লিপ অ্যাপনিয়া আছে কিনা বুঝতে একজন বিশেষজ্ঞ রোগীর পূর্ণাঙ্গ স্লিপ স্টাডি বা পলিস মনোগ্রাফি করে থাকেন।
অর্থাৎ রোগী যখন ঘুমান, তখন তার চোখের মুভমেন্ট, নাক ডাকা, হার্ট রেট, ব্রেন ওয়েভ, মাসল টুইচিং, অক্সিজেন স্যাচুরেশন, এমন প্রায় ২০টি প্যারামিটার দেখা হয়।
রোগী কতক্ষণ গভীরভাবে ঘুমিয়েছেন, কখন ঘুম পাতলা হয়ে গেছে বা জেগে উঠেছেন সেটির নোট নেয়া হয়।
এর মাধ্যমে চিকিৎসকরা বোঝার চেষ্টা করেন যে তার স্লিপ অ্যাপনিয়া আছে কিনা, থাকলে সেটি কোন পর্যায়ে রয়েছে।
এই স্লিপ স্টাডি হাসপাতাল বা রোগীর বাসা যেকোনো জায়গাতেই হতে পারে। সাধারণত বাংলাদেশের বড় বড় হাসপাতালগুলোয় স্লিপ স্টাডির সব ধরণের সুবিধা দেয়া আছে।
এই স্লিপ স্টাডি সাধারণত একজন নাক/কান/গলা বিশেষজ্ঞ দেখে থাকেন।
চিকিৎসা
নাক ডাকার চিকিৎসা প্রায়শই তীব্রতা এবং অন্তর্নিহিত কারণের উপর নির্ভর করে:
জীবনধারা পরিবর্তন
স্থূলতা যদি একটি কারণ হয় তবে ওজন কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়
ঘুমানোর আগে অ্যালকোহল এবং ঘুমের ওষুধ এড়িয়ে চলুন
রোগীদের পিঠের পরিবর্তে পার্শ্বে ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
নিয়মিত ঘুমানোর সময় এবং ঘুম থেকে ওঠার রুটিন অনুসরণ করলে সামগ্রিক ঘুমের মান উন্নত হতে পারে।
চিকিৎসাপদ্ধতির
বায়ুপ্রবাহ উন্নত করার জন্য নাকের স্ট্রিপ বা ডাইলেটর
নাক বন্ধ থাকলে অ্যালার্জির চিকিৎসা
অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের শ্বাসনালী খোলা রাখার জন্য CPAP মেশিন ব্যবহার করা হয়।
শ্বাসনালী খোলা রাখার জন্য মৌখিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়
অস্ত্রোপচার বিকল্প
তীব্র বা শারীরবৃত্তীয়ভাবে সম্পর্কিত নাক ডাকার জন্য:
Uvulopalatopharyngoplasty (UPPP): অতিরিক্ত গলার টিস্যু অপসারণ করে
সেপ্টোপ্লাস্টি: একটি বিচ্যুত নাকের সেপ্টাম সংশোধন করে
রেডিওফ্রিকোয়েন্সি টিস্যু অ্যাবলেশন: গলার টিস্যু সঙ্কুচিত করে
টনসিলেক্টমি/অ্যাডিনোয়েডেক্টমি: যদি বর্ধিত টনসিল/অ্যাডিনয়েড ব্লকেজের কারণ হয়।
Доступные форматы для скачивания:
Скачать видео mp4
-
Информация по загрузке: