Kotchandpur । jhenaidah। কোটচাঁদপুর উপজেলা। ঝিনাইদহ ।
Автор: Kayaduzzaman Ahad
Загружено: 2024-09-21
Просмотров: 1976
কোটচাঁদপুর বাংলাদেশের একটি পুরোনো শহর। কোটচাঁদপুর শহরটি বর্তমানে খুলনা বিভাগের ঝিনাইদহ জেলায় অবস্থিত। ১৯৮৬ সালে ঝিনাইদহ জেলা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে পর্যন্ত এই শহরটি বৃহত্তর যশোর জেলার অধীনে ছিল। এককালে কপোতাক্ষ নদী বড় বড় লঞ্চ, হাজারমণি নৌকা ও কিছু কিছু জাহাজও আসতো। ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বণিকরা এখানে আসতেন। বিশেষ করে চিনি, খেঁজুরের গুড়ের জন্য বিখ্যাত ছিল। কথিত আছে, এই এলাকা একসময় কেয়া বাগানে ভরা এক মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিদর্শন ছিল। ব্রিটিশ শাসন আমলে প্রতিষ্ঠিত ইংরেজদের বসবাসের বিশাল ভবনটি বর্তমানে বিদ্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই শহরটি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ, যোগাযোগব্যবস্থা ভালো ও ভারতের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে পূর্বকালে ছোট কলকাতা হিসেবে পরিচিত ছিল।
মুঘল সাম্রাজ্যের সম্রাট আকবরের শাসনামলে ইসলাম প্রচারের জন্য সরদার চাঁদ খা নামের এক দরবেশ এই এলাকায় আসেন। তিনি তার সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে কপোতাক্ষ নদের তীর বসতি স্থাপন করেন। তার নামানুসারেই প্রথমে এই এলাকার নাম রাখা হয় চাঁদপুর। পরবর্তীতে চাঁদপুর বঙ্গের একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠে ও দেশ বিদেশ থেকে এখানে মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য ও বসবাসের উদ্দেশ্যে আসতে শুরু করে। বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় মগ ও পর্তুগীজরা বেশ কয়েকবার এখানে আক্রমণ ও লুটপাট করে। ১৬০৮ সালে তৎকালীন বাদশা জাহাঙ্গীর খাঁ চিশতী নামের একজন সুবেদারকে চাঁদপুরে মগ-পর্তুগীজসহ ভিনদেশি দস্যুদের দমন করতে পাঠান। তারপরে ১৬১০ সালে সুবেদার ইসলাম খাঁ এখানে প্রাচীর নির্মাণ ও দস্যুদের বিচারের জন্য কোর্ট (আদালত) নির্মাণ করেন। তখন চাঁদপুরের আগে কোর্ট শব্দটি যুক্ত হয়ে নাম হয় কোর্টচাঁদপুর। কোর্টচাঁদপুর থেকেই বর্তমান কোটচাঁদপুর নামটি উদ্ভূত হয়েছে।
সুবেদার ইসলাম খাঁ মৃত্যুবরণ করার পরে কাসিম খাঁ কোটচাঁদপুরের সুবেদার নিযুক্ত হন। এরপরে ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে কোটচাঁদপুরকে মহকুমায় উন্নীত করা হয়। ১৮৬৩ সালের ১৪ই মার্চ পর্যন্ত এই এলাকাটি মহকুমা হিসেবে ছিল। কিন্তু তারপরে সেটি সম্পূর্ণরুপে বিলুপ্ত করা হয় এবং কোর্টটিও তখন বিধ্বস্ত হয়ে যায়।
একসময় ছোট কলকাতা খ্যাত কোটচাঁদপুর বিখ্যাত ছিল মাতগুড়ের জন্য। এই গুড় দিয়েই তৈরি হতো চিনি এবং সেই চিনির সুখ্যাতি ছিল দেশ-বিদেশে। সেই আমলের চিনিকলের স্মৃতিবহন করে এখনো দাঁড়িয়ে আছে বেশকিছু পুরোনো ভবন। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে ইউরোপিয়ান নাগরিক মিস্টার বেইক কোটচাঁদপুরে একটি চিনিকল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তারপরে এখানে আরও বেশকিছু চিনিকল প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৮৩ সালে কোটচাঁদপুরকে মিউনিসিপাল কর্পোরেশনে উন্নীত করা হয়। সেই সময় ডিস্ট্রিক ম্যাজিস্টারের দায়িত্বে ছিলেন মি.ক্যাসেল। তারপরে পর্যায়ক্রমে মি. ই জি ম্যাকলয়েড, এইচ সি ম্যাকলয়েড, নীলরঞ্জন রায়, হেমন্ত চন্দ্র দায়িত্ব পালন করেন। কোটচাঁদপুর পৌরসভার প্রথম মুসলিম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন গোলাম হায়দার সরদার, ১৯৪৭ সালে।
প্রাচীন আমলে তৈরি একটি বিশাল ভবন এখন শহরের কোটচাঁদপুর সরকারি মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কাজে ব্যবহৃত হয়। শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত আরেকটি ভবন (তারিন দত্তের বাড়ি) বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী ও নড়বড়ে হয়ে গেছে। এখন আর কপোতাক্ষে বড় বড় লঞ্চ, স্টিমার, হাজারমণি নৌকা আসে না। কোটচাঁদপুরের সেই সমৃদ্ধ ঐতিহ্য আর নেই এখন। কোটচাঁদপুরের এসব ভবনগুলো বাংলাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের একটি বড় অংশ। এই শহরের পুরাকীর্তিগুলো সংরক্ষণ করা হলে তা আমাদের ঐতিহ্যকে করবে আরও সমৃদ্ধ।
Доступные форматы для скачивания:
Скачать видео mp4
-
Информация по загрузке: