কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী লালন মেলা || Lalon Shah & Baul Culture.
Автор: Abdullah Al Noman
Загружено: 2025-12-25
Просмотров: 230
বাংলা সংস্কৃতির এক অনন্য নাম লালন ফকির। তাঁর জীবন, দর্শন, গান ও ভাবধারা আজও লাখো মানুষের হৃদয়ে জাগিয়ে রাখে মানবতার আলো। প্রতি বছর কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায় অনুষ্ঠিত হয় লালন মেলা, যেখানে দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো বাউল, সাধক, গবেষক ও দর্শনার্থী ভিড় করেন। এই ভিডিওতে আমরা আপনাকে নিয়ে যাচ্ছি সেই মেলার রঙ, আনন্দ ও ভাবজগতের এক মায়াবী সফরে।
লালন শাহ, যিনি “ফকির লালন সাঁই” নামে পরিচিত, ছিলেন বাংলার আধ্যাত্মিক ও মানবতাবাদী চিন্তার অন্যতম মহান প্রতিভা। জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, ধারণা করা হয় তিনি ১৭৭৪ সালে কুষ্টিয়া জেলার ছেউড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮৯০ সালে পরলোকগমন করেন। লালন সাঁই ছিলেন একাধারে দার্শনিক, কবি ও সমাজ সংস্কারক। তাঁর দর্শনের মূল কথা ছিল মানবধর্ম “মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি”। তিনি জাতপাত, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গভেদ – এসব সামাজিক ভেদাভেদকে অস্বীকার করেছিলেন।
লালন সাঁই প্রায় তিন হাজারেরও বেশি গান রচনা করেন বলে ধারণা করা হয়, যদিও সংরক্ষিত আছে প্রায় ৮০০–৯০০টি। তাঁর গানে উঠে এসেছে —
জীবনের রহস্য,
আত্মার মুক্তি,
মানবপ্রেম,
প্রকৃতি ও সমাজ সম্পর্কে গভীর ভাবনা।
জনপ্রিয় কিছু গান:
“আমি একদিনও না দেখিলাম তারে”
“সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে”
“খাঁচার ভেতর অচিন পাখি”
“মন রে, কৃষ্ণ নাম তোর কানে কানে বলি”
এই গানগুলো শুধু সুর নয়, এগুলো একেকটি দার্শনিক বার্তা, যা মানুষের আত্মাকে জাগিয়ে তোলে।
প্রতি বছর চৈত্র মাসের পূর্ণিমায় কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়া আখড়াবাড়িতে অনুষ্ঠিত হয় লালন ফকিরের তিরোধান দিবস ও লালন মেলা। এই মেলা চলে তিন দিনব্যাপী, কখনো কখনো চার দিনও।
মেলার প্রধান আকর্ষণসমূহ: বাউল গানের আসর – সারারাত চলে একটানা গানের আসর। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বাউলরা তাদের ভাবগান পরিবেশন করেন। 🕯 ধর্মীয় সাধনা ও ভাবযাপন – আখড়ায় সাধকরা ধ্যানে, প্রার্থনায় ও লালনের দর্শনচর্চায় লিপ্ত থাকেন। লোকজ সংস্কৃতির প্রদর্শনী – পল্লিগীতি, আলোকচিত্র, লালন স্মৃতিচিহ্ন, লোকজ হস্তশিল্প প্রদর্শনী ইত্যাদি মেলার অন্যতম আকর্ষণ। মানবতার বার্তা প্রচার – লালন মেলা শুধুমাত্র বিনোদনের উৎসব নয়; এটি মানবধর্ম ও সাম্যের এক মহান পাঠশালা।
ছেউড়িয়া গ্রামের এই আখড়াবাড়িই লালন সাঁইয়ের সাধনভূমি ও সমাধিস্থল। এখানে রয়েছে —
লালনের সমাধি,
তাঁর ব্যবহৃত জিনিসপত্র,
আখড়ার বাউল সাধকদের আবাস,
দর্শনার্থীদের জন্য খোলা প্রাঙ্গণ।
প্রতি বছর হাজারো মানুষ এখানে আসেন লালনের চেতনা অনুভব করতে, গান শুনতে এবং আত্মার শান্তি খুঁজে পেতে।
আজকের বিভাজিত সমাজে লালনের দর্শন এক অনন্ত বার্তা দেয় —
“মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।”
তিনি মানুষকে শিখিয়েছেন, ধর্ম নয়, মানবতাই সর্বশ্রেষ্ঠ। যেখানে মানুষ মানুষকে ভালোবাসবে, সেখানে থাকবে না কোনো ভেদাভেদ। তাঁর দর্শন আজও শান্তি, সাম্য ও ভালোবাসার এক অমর দিশা দেখায়।
বাউলরা লালনের অনুসারী। তাঁরা মনে করেন, ঈশ্বর কোনো মূর্তি নয়, বরং মানুষের মধ্যেই বিরাজমান। তাঁদের জীবনের মূল লক্ষ্য হলো “নিজেকে চেনা”। বাউলরা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং সমাজকে ভালোবেসে মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেন।
তারা বিশ্বাস করেন —
“যে জন প্রেমের পথ জানে না, সে জন মানুষ নয়।”
লালনের ভাবনা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। যে সমাজে এখনো বৈষম্য, ধর্মীয় বিভাজন, অসহিষ্ণুতা ও হিংসা বিদ্যমান, সেখানে লালনের গান ও দর্শন এক পরম শান্তির প্রতীক। তাঁর গান শুনলে মনে হয়, তিনি যেন আজও আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন।
তাঁর এক অমর বাণী ছিল —
“আমার মধ্যে আমি লুকায়া রয়।”
এটি শুধু ধর্মীয় চিন্তা নয়; এটি আত্ম-অনুসন্ধানের পথ।
বাংলা সাহিত্যে, সংগীতে ও দর্শনে লালনের প্রভাব অপরিসীম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ — অনেকেই লালনের ভাবনা ও গানের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ নিজেই বলেছিলেন, “লালনের গানে এমন এক গভীর দার্শনিকতা আছে, যা যেকোনো ধর্মীয় বক্তৃতার চেয়েও শক্তিশালী।”
📌 স্থান: ছেউড়িয়া, কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ 📅 সময়: প্রতি বছর চৈত্র মাসের পূর্ণিমা তিথি আয়োজক: লালন একাডেমি ও স্থানীয় বাউল সম্প্রদায়।
#লালনমেলা২০২৫ #লালনফকির #BaulFestival #LalonShah #KushtiaFair #CheuriaAkhrabari #BanglaCulture #LalonSong #BaulMusic #ManobDhormo #FakirLalonSai #লালনমেলা #FolkCulture #BangladeshFestival #LalonMela2025 #FolkSong #SpiritualMusic #Humanity #LalonPhilosophy #BengalTradition #কুষ্টিয়ালালনমেলা
Доступные форматы для скачивания:
Скачать видео mp4
-
Информация по загрузке: