অশোক মুখোপাধ্যায়: বাংলা থিয়েটারের এক অনিবার্য স্টপেজ|দ্বিতীয় পর্ব |
Автор: Artpoure
Загружено: 2026-01-09
Просмотров: 320
আধুনিক বাংলা থিয়েটারের জার্নিতে অশোক মুখোপাধ্যায় এক অনস্বীকার্য স্টপেজ। ১৯৪০ সালে উত্তর কলকাতার বনেদি পাড়া শোভাবাজারে তাঁর জন্ম। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের কৃতী ছাত্র হিসেবে প্রাথমিকভাবে ভেবেছিলেন লেখাপড়া নিয়েই সারাজীবন থেকে যাবেন। তাঁর বাড়ি থেকে দক্ষিণ দিকে গেলে চিৎপুরের বিখ্যাত যাত্রাপাড়া, পূর্বের দিকে গেলেই হাতিবাগানের সিনেমাপাড়া, থিয়েটার পাড়া। সালটা ১৯৫২-৫৩ একদিন দেখে ফেললেন 'চার-অধ্যায়'। 'নতুন' কিছু দেখার স্বাদ পেলেন - এই সবকিছুই যেন অলক্ষ্যে তাঁর অভিনয় জগতে চলে আসার স্ক্রিপ্টটা তৈরি করে রেখেছিল! কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য, নাটক এবং গণজ্ঞাপন বিদ্যার পাঠদান করেছেন—থিয়েটার বিষয়ক তাঁর প্রবন্ধসংকলনগুলি আজ নাট্যশিক্ষার্থীদের অবশ্যপাঠ্য হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর সৃজনী সত্তার পূর্ণ বিকাশের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে থিয়েটারকেই বেছে নিয়েছিলেন।১৯৬০ সালে অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠিত নান্দীকারে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর নাট্যজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে নান্দীকার ত্যাগ করে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন থিয়েটার ওয়ার্কশপ—যা বাংলা থিয়েটারের বিকল্প ও পরীক্ষামূলক ধারার এক শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। অভিনেতা হিসেবে অশোক মুখোপাধ্যায়ের ক্রাফট লক্ষ করা যায় রাজরক্ত, চাকভাঙা মধু, নরক গুলজার, শোয়াইক গেল যুদ্ধে, গালিলেওর জীবন, বিসর্জন, বেড়া, সদাগরের নৌকো, পালিয়ে বেড়ায়, অন্ধযুগের মানুষ, কাশ্মীর প্রিন্সেস, মাটির গভীরে, মুছে যাওয়া দিনগুলি, কুশীলব, দীর্ঘ দিন দগ্ধ রাত প্রভৃতি বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রযোজনায়। একই সঙ্গে নির্দেশক হিসেবে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে বেলা অবেলার গল্প, আলিবাবা, বেড়া, একা এবং একা, পোকা, ম্যাকবেথ, অন্ধযুগের মানুষ সহ থিয়েটার ওয়ার্কশপের একাধিক স্মরণীয় প্রযোজনা। পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রযোজিত শ্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, নাটক দুঃসময় কিংবা রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রযোজিত রবীন্দ্রনাথের চিরকুমার সভা তাঁর নির্দেশনায় বিশেষ তাৎপর্য লাভ করেছে। অভিনয় ও নির্দেশনার পাশাপাশি নাট্যরচনা, অনুবাদ ও রূপান্তর, নাট্যপত্রিকা সম্পাদনার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। ভারতের প্রায় সমস্ত নাট্যকেন্দ্রের পাশাপাশি ইউরোপ ও আমেরিকার বহু শহরে তিনি অভিনয়, প্রযোজনা, শিক্ষণ ও আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণ করেছেন। থিয়েটারপ্রেমীদের কাছে অশোক মুখোপাধ্যায় কেবল একজন সফল শিল্পী নন; তিনি এক নিরন্তর সাধক। আশি-উত্তর এই অক্লান্ত স্রষ্টা আজও অতীত সাফল্যের আত্মতৃপ্তিতে নয়, বরং ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও সম্ভাবনার কথাই বলতে ভালোবাসেন। তাই বোধহয় এখনও এমন সৃষ্টিশীল ও সম্ভাবনাময় থাকতে পেরেছেন। এই সাক্ষাৎকার আমাদেরকে ঋদ্ধ করেছে। পাশাপাশি, আগামী প্রজন্মের কাছে জীবনের এবং নাট্যচর্চার সহজ পাঠ হয়ে থাকবে এই আশা রাখি।
সঞ্চালনায় সঙ্গীতা পাল
ক্যামেরা এবং কাটাকুটি আবির রায় চৌধুরী
শব্দে প্রদীপ্ত সাহা
ভাবনা ও রূপায়ণে
রোয়াক-আর্টপৌরে
ডা গৌরব রায় ও দেবার্ঘ্য দাস
Доступные форматы для скачивания:
Скачать видео mp4
-
Информация по загрузке: