রজ্জুমালার আত্মহত্যার চেষ্টার কাহিনী স্বর্গ কথা বৌদ্ধ কাহিনী
Автор: Buddho Hoda 24
Загружено: 2026-01-09
Просмотров: 1729
রজ্জুমালার আত্মহত্যার চেষ্টার কাহিনী স্বর্গ কথা বৌদ্ধ কাহিনী @BuddhoHoda24
হে দেবতে, তুমি অতি উত্তমবর্ণে বিভূষিতা হইয়া [এই স্বর্গে] অবস্থান করিতেছ, তুমি হস্তে-পদে বিবিধ রূপে দিব্যপুষ্প ধারণ করিয়া উত্তম বাদ্যের তালে তালে নৃত্য করিতেছ।
৮২৭. তুমি নৃত্য করিবার সময় তোমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হইতে কর্ণসুখকর মনোরম দিব্যশব্দ নিঃসৃত হইতেছে।
৮২৮. তুমি নৃত্য করিবার সময় তোমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হইতে দিব্যগন্ধ প্রবাহিত হইতেছে, তাহা অতি ঘ্রাণ সুখকর মনোরম গন্ধ।
৮২৯. তোমার শরীর বিবর্তিত হইবার সময় কেশবেণীর অলংকার নির্ঘোষ পঞ্চাঙ্গিক তূর্যধ্বনির ন্যায় শ্রুত হইতেছে।
৮৩০. তোমার মস্তকের রত্নময় অলংকারসমূহ মৃদুমন্দ বায়ুহিল্লোলে দোলিত ও প্রবল বায়ুতে বিশেষভাবে প্রকম্পিত হইয়া যেই নির্ঘোষ উত্থিত হইতেছে, তাহা পঞ্চাঙ্গিক তূর্যধ্বনিবৎ শ্রুতিগোচর হইতেছে।
৮৩১. যেমন সুপুষ্পিত মঞ্জুসক বৃক্ষ আপন সুগন্ধ সর্বদিকে বহু যোজন প্রবাহিত করে, তদ্রূপ তোমার মস্তকে অলংকৃত যেই সমস্ত পবিত্র গন্ধসম্পন্ন মনোরম পুষ্পমাল্য আছে, তাহার সুগন্ধও সকল দিকে প্রবাহিত হইতেছে।
৮৩২. তুমি যেই পবিত্র গন্ধের আঘ্রাণ লাভ করিতেছ এবং দেবদুর্লভ সৌন্দর্যরাশি তোমার নয়ন সার্থক করিতেছে, হে দেবতে, তোমাকে জিজ্ঞাসা করিতেছি, ইহা কোন কর্মের ফল, তাহা আমাকে বল।’
দেবকন্যা বলিলেন :
৮৩৩. ‘আমি পূর্বজন্মে গয়া প্রদেশে কোনো ব্রাহ্মণের দাসী ছিলাম, আমাকে সকলে দুর্ভাগিনী, অলক্ষ্মী রজ্জুমালা বলিয়া জানিত।
৮৩৪. [ব্রাহ্মণীর] আক্রোশ, প্রহার ও তর্জনে [আমার] দৌর্মনস্য উৎপন্ন হওয়াতে, যেন জল আহরণে যাইতেছি, সেইরূপ ভাণ করিয়া কলসীকক্ষে [গৃহ হইতে] বাহির হইয়াছিলাম।
৮৩৫. আমি বিপথে কলসী রাখিয়া গভীর অরণ্যে প্রবেশ করিলাম, [তথায় চিন্তা করিলাম] এই স্থানেই আমি মরিব, আমার জীবন ধারণে কী ফল?
৮৩৬. ফাঁস দৃঢ়রূপে নির্মাণ করিয়া তাহা বৃক্ষে বন্ধন করিলাম, তৎপর বনাশ্রিত কেহ আছে না কি মনে করিয়া চতুর্দিক অবলোকন করিতেছিলাম।
৮৩৭. তথায় সর্বলোকের হিতসাধক মুনিবর নির্ভীক ধ্যানরত সম্যকসম্বুদ্ধকে [অনতিদূরে] বৃক্ষমূলে উপবিষ্টাবস্থায় দেখিতে পাইলাম।
৮৩৮. তাঁহাকে দেখিয়া আমি সংবেগপ্রাপ্ত ও আশ্চর্যান্বিত হইলাম, আমার লোমহর্ষণ হইল, [আমি চিন্তা করিলাম] বনাশ্রিত ইনি কে! মানব না দেবতা!
৮৩৯-৮৪০. [মহাপুরুষ লক্ষণাদিতে] অলংকৃত, [অনন্ত গুণ-হেতু] প্রসন্নতা উৎপাদনযোগ্য, তৃষ্ণাবিমুক্ত ও নির্বাণপ্রাপ্ত শ্রীশ্রী সম্বুদ্ধকে দেখিয়া আমার চিত্ত প্রসন্ন হইল, [আমার মনে হইল] ইনি সাধারণ পুরুষ নহেন, গুপ্তেন্দ্রিয়, ধ্যানরত, আরম্মণ-নিষ্ক্রান্ত চিত্ত ও সর্বলোকের হিত সম্পাদক সেই সম্বুদ্ধ হইবেন।
৮৪১-৮৪২. মিথ্যাদৃষ্টিদের ভয় উৎপাদনকারী, দুষ্প্রাপ্য, গুহাশ্রিত সিংহ সদৃশ ও উদুম্বরপুষ্প সদৃশ দুর্লভ দর্শনে সেই তথাগত মৃদুবাক্যে আমাকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন, হে রজ্জুমালে, তথাগতের শরণাপন্ন হও।
৮৪৩. আমি তাঁহার সেই নির্দোষ, অর্থযুক্ত, পবিত্র, কোমল, মৃদু, মধুর ও সর্বপ্রকার শোক উপশমক বাক্য শ্রবণ করিয়া [তাঁহার নিকট উপস্থিত হইলাম]।
৮৪৪. ত্রিলোকের হিতসাধক তথাগত [দিব্যজ্ঞানে] আমার চিত্ত কার্যক্ষম, প্রসন্ন ও বিশুদ্ধ হইয়াছে জানিয়া আমাকে উপদেশ প্রদান করিলেন।
৮৪৫. তিনি আমাকে বলিলেন, ইহাই দুঃখ, ইহাই দুঃখোৎপত্তির কারণ, ইহাই দুঃখনিরোধ, ইহাই দুঃখনিরোধের উপায় বা অমৃতময় নির্বাণ লাভের পথ।
৮৪৬. আমি অনুকম্পাকারী ও সুদক্ষ বুদ্ধের উপদেশে স্থিত হইয়া অচ্যুত, অমৃত ও শান্তিপদ নির্বাণ পদ লাভ করিলাম।
৮৪৭. সেই আমি মৌলিক শ্রদ্ধায় শ্রদ্ধাবতী, অচলা স্নেহবতী ও সম্যক দর্শনে অবিচলিতা সম্বুদ্ধের ঔরসজাত কন্যা।
৮৪৮. সেই আমি [স্বর্গে মার্গফল সুখে] নির্ভীক চিত্তে রমিত হইতেছি, ক্রীড়া করিতেছি, দিব্যমাল্য ধারণ করিতেছি ও সুধা পান করিতেছি।
১৬৫-৮৫৫. ষাটি সহস্র তূর্যধ্বনি করিয়া আমার প্রীতি-সৌমনস্য উৎপাদন করে। আলম্ব, গগ্গর, ভীম, সাধুবাদী, সংসয়, পোক্খর, সুফস্স এই সব বাদ্যকারী দেবপুত্র এবং বীণামোক্ষা, নন্দা, সুনন্দা, সোণদিন্না, সুচিমহিতা, অলম্বুসা, মিস্সকেসী, পুণ্ডরীকা, অতিদারুণী, এণিফস্সা, সুফস্সা, সুভদ্রা, মৃদুবাদিনী এই সব দেবকন্যা এবং আরও অন্যান্য শ্রেষ্ঠতরা দেবকন্যা আমার প্রীতিবর্ধন করে। মদীয় আনন্দবর্ধনকারী দেবপুত্র ও দেববালাগণ আমার নিকট আসিয়া তাহাদের পরস্পরকে বলে, ‘ওহে, চল আমরা নাচিয়া-গাহিয়া তাঁহাকে রমিত করি।’ যাহারা পুণ্যকাজ করে নাই, তাহাদের জন্য এই স্থান নহে; যাহারা পুণ্যবান তাহাদের জন্যই এই ত্রিদশালয়ের শোকহীন, রমণীয় বৃহৎ নন্দনকানন। যাহারা পুণ্য সম্পাদন করে নাই, তাহাদের সুখ ইহলোকেও নাই, পরলোকেও নাই; পুণ্যবানেরা ইহ-পরলোকে সুখ লাভ করে। যাহারা তাবতিংস দেবতাদের সঙ্গ লাভ করিবার ইচ্ছা করে, তাহাদের বহু কুশলকর্ম সম্পাদন করা প্রয়োজন; পুণ্যবানই সকল প্রকার ভোগবিলাসের দ্বারা প্রমোদিত হয়।
৮৫৬. যেই তথাগতরূপ পুণ্যক্ষেত্রে দানীয় বস্তু দান দিয়া দায়কগণ স্বর্গে প্রমোদিত হইয়া থাকে, মনুষ্যদের সেই দানের উপযুক্ত পাত্র, পুণ্যক্ষেত্রের আকর তথাগত বহুজনের হিতার্থে জগতে উৎপন্ন হন।
Fair Use Disclaimer: ---..
This channel may use some copyrighted materials without specific authorization of the owner but contents used here falls under the “Fair Use” as described in The Copyright Act 2000 Law No. 28 of the year 2000 of Bangladesh under Chapter 6, Section 36 and Chapter 13 Section 72. According to that law allowance is made for "fair use" for purposes such as criticism, comment, news reporting, teaching, scholarship, and research. Fair use is a use permitted by copyright statute that might otherwise be infringing. Non-profit, educational or personal use tips the balance in favor of fair use. ....
#Buddho_hoda_24
Доступные форматы для скачивания:
Скачать видео mp4
-
Информация по загрузке: